ছয়শ বাইশ সালে নির্মিত এই মসজিদটি আজও বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর মাঝে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। ইসলামের প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত ‘মসজিদ-ই-কুবা’ যা মদিনা শহরে অবস্থিত।

ইসলামের আবির্ভাবের আগে মদিনা শহরটির নাম ছিল ‘ইয়াথ্রিব’। বাণিজ্যিক ও ভৌগোলিক গুরুত্বের দিক থেকে সেসময় এটি বেশ সুপরিচিত ছিল। প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলিম হজ ও ওমরাহ পালন করার উদ্দেশে ইসলামের প্রথম রাজধানী মদিনায় যান। মক্কার পরে এই মদিনা শহরকে ইসলামে দ্বিতীয় পবিত্র শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ সেখানে ইসলামের সর্বশেষ নবী দ্বারা নির্মিত ‘নবীর মসজিদ’, মানে মসজিদে নববি অবস্থিত।

মদিনা শহরে ইসলামের আবির্ভাবের আগে একাধারে পাহাড়, সমতল, মরূদ্যান, সোনা, রূপা ও তামার খনি ছিল। সলিম ও বিদেশিরা কোনও বাধা ছাড়াই মদিনার পর্যটন স্থানগুলোতে ভ্রমণ করতে পারবেন। সরকারের কোন রকম বাঁধা বা আইনি জটিলতা নেই এখানে।

কুবা মসজিদ:
কুবা মসজিদটি, মসজিদে নববি থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ, যার ভিত্তি ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাসূল (সাঃ) মদিনায় প্রবেশের আগে চারদিন কুবায় কাটিয়েছিলেন।

মসজিদে কুবায় নামাজ পড়া উমরাহ’র সমান পূণ্যের কাজ। ইতিহাসবিদরা বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন। কুবা মসজিদের জায়গাটি ছিলো- হযরত কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর পতিত জমি। তিনি ছিলেন আমর ইবনে আওফের গোত্রপতি। এখানে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ১৪ দিন (কেউ বলেন ১০ দিন) অবস্থান করেন ও তার আতিথ্য গ্রহণ করেন।

তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ( রা.) তার খেলাফতকালে মসজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নিমাণ করেন।এর অনন্য স্থাপত্য এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যের জন্য অনেক মানুষ এটি পরিদর্শন করে।  সবশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নিমাণ করা হয়। এই মসজিদ নির্মাণে পুরো মসজিদে এক ধরনের সাদাপাথর ব্যবহার করা হয়, যা অন্যকোনো মসজিদে সাধারণত দেখা যায় না।

চারটি উঁচু মিনার, ছাদে সাতচল্লিশ মিটার উচ্চতার সাদা ১টি বড় গম্বুজ এবং ৫টি অপেক্ষাকৃত ছোটো গম্বুজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম মিনারের নির্মাণের কৃতিত্ব হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজের। এ ছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। মসজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজের জায়গা ও প্রবেশ পথ আলাদা। অজুর জায়গাও ভিন্ন।

হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে এক ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। -ইবনে মাজাহ